সি প্রোগ্রামিং কি, এর উৎপত্তি সিনট্যাক্স ও কীওয়ার্ড এবং অপারেটর

0
430
c_programing_language_Part-1

স্টক নিউজ বিডি ডেস্ক: সি একটি প্রোগ্রামিং ভাষা। সি নির্মাণ করেন ডেনিস রিচি, বেল ল্যাবে ৭০ এর দশকে কাজ করার সময়। ভাষাটি তৈরির প্রথম উদ্দেশ্য ছিল ইউনিক্স- অপারেটিং সিস্টেম এর কোড লেখায় এর ব্যবহার, কিন্তু অচিরেই এটি একটি বহুল ব্যবহৃত ভাষায় পরিণত হয়। সি++ ও জাভা সহ পরিবর্তীকালের অনেক প্রোগ্রামিং ভাষার উপর সি’র গভীর প্রভাব পড়েছে। সি এর সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে এর বহনযোগ্যতা। সি দিয়ে রচিত প্রোগ্রাম যেকোন অপাররেটিং সিস্টেমের কম্পিউটারে চালানো যায়। ৭০ এবং ৮০ দশকের দিকে সি এর জনপ্রিয়তা বাড়ার সাথে সাথে এর অনেকগুলো ভার্সন তৈরি হয়। ১৯৮৩ সালে আমেরিকান মাননিয়ন্ত্রক সংস্থা সি এর ১টি আদর্শ ভার্সন তৈরির জন্য কমিটি গঠন করে। দীর্ঘ ৬ বছর পরে ১৯৮৯ সালে সেই আদর্শ সি ভাষাটি তৈরি হয়, যা আমেরিকান মাননিয়ন্ত্রক সংস্থা সি (আনসি সি (ANSI C)) নামে পরিচিত। পরবর্তিতে আন্তর্জাতিক মাননিয়ন্ত্রক সংস্থা ১৯৯০ সালে সি এর এই আদর্শ ভার্সনটি গ্রহণ করে, যা সি৯০ নামে পরিচিত। মুলত “সি৮৯” এবং “সি৯০” একই ভাষা। যুগের প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক মাননিয়ন্ত্রক সংস্থা ১৯৯৫ সালে এই সংস্করণকে বর্ধিত করে এবং পরবর্তিতে ১৯৯৯ সালে সম্পূর্ণ নতুন একটি সংস্করণ প্রকাশ করে যা সি৯৯ নামে পরিচিত। সর্বশেষ ২০১১ সালে সি প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজের নবীনতম সংস্করণ সি১১ প্রকাশিত হয়।

উৎপত্তি
১৯৬০-এর দশকে বেশ কিছু কম্পিউটার প্রোগ্রামিং ভাষা তৈরি করা হয়েছিল। মার্কিন কম্পিউটারবিদ গ্রেস হপার Mathematic, Flowmatic এবং A2 নামে তিনটি প্রোগ্রামিং ভাষা উদ্ভাবন করেন। এরপর জেম্‌স ব্যাকাস তৈরি করেন ForTran। তারও পরে ALGOL, COBOL, Ada ইত্যাদি প্রোগ্রামিং ভাষা উদ্ভাবন করা হয়। মূলত এই ভাষাগুলিই আধুনিক প্রোগ্রামিং ভাষাগুলির পূর্বসূরী। কিন্তু ঐ ভাষাগুলিকে ভিন্ন ভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হত। তাই কম্পিউটার বিজ্ঞানীরা এমন একটি প্রোগ্রামিং ভাষার কথা ভাবতে থাকেন যার মাধ্যমে সব ধরনের সফটওয়্যার তৈরি করা সম্ভব হবে। এরই ফলশ্রুতিতে বিজ্ঞানীরা তৈরি করেন ALGOL 60 (Algorithmic Language) এবং এরপর Combined Programming Language (CPL), কিন্তু CPL শেখা এবং ব্যবহার করা ছিল বেশ কঠিন। তাই এটা জনপ্রিয়তা পায়নি।

ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় এর মার্টিন রিচার্ড CPL কে ভিত্তি করে ১৯৬৭ সালে তৈরি করেন Basic Combined Programming Language (BCPL) কিন্তু এটি ছিল মূলত Less Powerful to Specific এবং টাইপবিহীন একটি প্রোগ্রামিং ভাষা।

এ সময়েই যুক্তরাষ্ট্রের বেল গবেষণাগারে বিজ্ঞানী টমসন তৈরি করেন বি (B) নামক একটি প্রোগ্রামিং ভাষা; এটি ছিল পূর্বের BCPL-এর একটি উন্নত সংস্করণ। ডেনিস রিচি পরবর্তীতে B এবং BCPL অনুসরণ করেন এবং নিজে থেকে আরো কিছু কৌশল ব্যবহার করে তৈরি করেন “সি” (C)। মূলত B-এর সীমাবদ্ধতা গুলো দূর করার উদ্দেশ্যেই “সি” এর উৎপত্তি।

সিনট্যাক্স ও কীওয়ার্ড

সি প্রোগ্রামিং ভাষায় কীওয়ার্ড বলতে বোঝায় সেইসব সংরক্ষিত শব্দসমূহকে যেগুলো একটি বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে। সি৮৯ এ এরকম ৩২টি কীওয়ার্ড আছে।

auto, break, case, char, const, continue, default, do, double, else, enum, extern, float, for, goto, if, int, long, register, return, short, signed, sizeof, static, struct, switch, typedef, union, unsigned, void, volatile, while

সি৯৯ এ এরকম আরো পাঁচটি কীওয়ার্ড যুক্ত হয়।
Bool_Complex_Imaginary_inline_restrict

সি১১ তে যুক্ত হয় আরো সাতটি কীওয়ার্ড।
Alignas_Alignof_Atomic_Generic_Noreturn_Static_assert_Thread_local

সি এর অপারেটর গুলো হল

অ্যারিথমেটিক: +, -, *, /, %
অ্যাসাইনমেন্ট: =
অগমেন্টেড অ্যাসাইনমেন্ট: +=, -=, *=, /=, %=, &=, |=, ^=, <<=, >>=
বিটওয়াইজ লজিক: ~, &, |, ^
বিটওয়াইজ শিফট্‌: <<, >>
বুলিয়ান লজিক: !, &&, ||
কন্ডিশনাল ইভালুয়েশন: ? :
ইকুয়ালিটি টেস্টিং: ==, !=
কলিং ফাংশন: ( )
ইনক্রিমেন্ট ও ডিক্রিমেন্ট অপারেটর: ++, —
মেম্বার সিলেকশন: ., ->
অবজেক্ট সাইজ: sizeof
অর্ডার রিলেশন: <, <=, >, >=
রেফারেন্স ও ডিরেফারেন্স: &, *, [ ]
সিকুয়েন্সিং: ,
সাবএক্সপ্রেসন গ্রুপিং: ( )
টাইপ কনভার্সন: (typename)

উদাহরণ কোড
সি প্রোগ্রামিং ভাষার উদাহরণ : Hello World হল একটি সাধারণ প্রোগ্রামিং কোড যা সকল প্রোগ্রামার প্রোগ্রামিং কোড লিখার সময় লিখে থাকে ।

এই কোডের অংশটুকুতে “main()” নামের ফাংশন লোড হলে একটি লাইনে Hello World লেখা দেখাবে।

main()
{
printf(“‘Hello World\n”);
}

সি প্রোগ্রামিং কোডের আদর্শ উদাহরণ

#include<stdio.h>

int main(void)
{
printf(“Hello World\n”);
return 0;
}
এখানে #include লিখার মাধ্যমে কম্পেইলার কে stdio.h নামের হেডার ফাইল পড়তে বলা হয়েছে ।
int main(void) মানে মূল ফাংশন ইন্টেজার (গাণিতিক পূর্ণ সংখ্যা) প্রদান করবে । আর (void) লিখার কারনে মূল ফাংশনে কোন কিছু ইনপুট করতে হবে না ।
printf(“Hello World\n”) এখানে printf হল একটি ফাংশন যার বিস্তারিত stdio.h হেডার ফাইলের মধ্যে লিখা আছে । সাধারণত printf এর মাধ্যমে স্ট্রিং উপাত্ত কম্পিউটারের পর্দায় দৃশ্যমান করার জন্য ব্যবহার হয় । এর মানে Hello World লিখাটি কম্পিউটারের পর্দায় দৃশ্যমান হবে।

শেয়ার করুন

স্টক নিউজ বিডি.কম/ এসআর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here